February 26, 2009

একটি অব্যক্ত ভালবাসা এবং আমি...............

---ইশ কতদিন তোমায় দেখিনা বলতো? তোমার গায়ের গন্ধ শুকি না?
---দূর পাগল!
---সত্যি, তোমার গায়ে একটা অদ্ভুত গন্ধ আছে, আমি নাক দিলেই পাই। মিষ্টি একটা গন্ধ। আমি গায়ে নাক শুকি আর বলি। আর সে হাসে। ভারি মিষ্টি সে হাসি। ঘরে ফিরে যখন তার মুখের এই হাসিটা দেখি অনেকদিন না দেখতে পাওয়ার কষ্ট গুলো যেন নিমিষেই বিদায় নেয়।
---তুমি কিন্তু এখন বাইরের কাপড় ছাড়নি। একটু রাগি কন্ঠে আমাকে হুঁশিয়ারি জানায়।
---এই রে! ভুলেই গিয়েছিলাম। ভীষন আলসেমি লাগছে। একটু পরে ছাড়ি?
---দেরী করলেই দেরী হবে। তুমি কি এখন ছোট্টটি আছ? আচ্ছা ঠিক আছে এসো আমি হেল্প করি।
আমি লজ্জায় সরে আসি। বলি, দূর কি যে বল না? আমি বুঝি পারি না? আচ্ছা যাই। কিন্তু ভীষন ক্ষিদে পেয়েছে আর অনেক কথা বলার বাকি, পেটে কথা আর ক্ষিধা দুটোই ভীষন কষ্ট দিচ্ছে।
---এত কথা না বলে আগে ফ্রেশ হয়ে নাও।

ফ্রেশ হয়ে আসতে আসতে আমার খাবার রেডি।
--- খাইয়ে দাও।
---বাচ্চা আছো এখনো?
--- আচ্ছা খাইয়ে দিতেই তো বললাম। এতে ছোট বড়র কি আছে? যাও দিতে হবে না।
----এখন খাও, হাতে অনেক কাজ পরে আছে। রাতে খাইয়ে দেব।
খাওয়া শেষে পায়ে পায়ে ঘুরতে শুরু করা। এতদিন কি হয়েছে, নতুন বন্ধু কারা, পড়াশুনার খবর, মজা করার খবর, কে কি বলল, ইথারের সম্পর্ক, লেখালেখির খবর বলার শুরু। অনেক রাত হয়ে গেলেও কথা আমার শেষ হয় না। পাশে শুয়েও গল্প করতে করতে ঘুমানো চাই। এমন অনেক বার হয়েছে, আমি গল্প করছি আর একটু পরে শুনি ওর দ্রুত নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ।

ছুটি শেষে ফেরার সময় আমি বলি, এই তোমার ঠিকানাটা দাওতো, তোমাকে চিঠি লিখব।
--সময় পাবে চিঠি লেখার?
---সময় খুঁজে বের করব। আগে তো তুমি অনেক চিঠি পেতে, এখন না হয় আমার কাছ থেকেই পেলে।
----ঠিক আছে লিখ। কিন্তু তোমার সাথে তো প্রতিদিন আমার ফোন এ কথা হয়।
---তাতে কি হয়েছে? তাই বলে কি চিঠি লেখা যাবে না? আর তাছাড়া কিছু কথা মুখে বলা যায় না। সেক্ষেত্রে চিঠির মাধ্যমে বলাটা অনেক সহজ।
“উফফ, তোমাদের এত কথা কেন বলতো, এখন আবার চিঠি দিতে হবে? বাসায় আসলে মুখে খই ফোটে তারপরেও কথা শেষ হয়না এখন আবার চিঠি! তোমাদের নিয়ে আর পারা গেল না।” পাশ থেকে বাবার কথা শুনে মুখে আমাদের দু’জনেরি হাসি। বাবার গলা জড়িয়ে ধরে আমি বলি, আচ্ছা বাবা তুমি কি খুব জেলাস ফিল কর?” “নারে করি না। তোমরা দু’জন দু’জনকে এত ভালবাস কিন্তু পরে আবার ভুলে যাবে নাতো?” দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে বাবার বুক থেকে। আমরা দু’জন হঠাৎ করেই চুপ হয়ে যাই।
আমার জন্মের সাথেই এই ভালবাসার সম্পর্কটার শুরু, আমার মা-বাবার সাথে। এখন যখন একা থাকি তখন খুব ভাবি এদের কথা। শনিবার, বিশ্ব ভালবাসা দিবস। আচ্ছা, ভালবাসা দিবস কি শুধু জুগলদের জন্যে? এই ভালবাসার কি কোন স্থান সেখানে নেই? বাবা-মা কে কখন বলা হয়নি তাদের কে যে কতটা ভালবাসি, কারন মনে হয় এটা একটা অনুভুতির ব্যাপার, যেটা অনুভব করতে হয়। ভালবাসা দিবসের লেখা আহবান করা হয়েছে। আর এটা হচ্ছে এই পর্যন্ত আমার রিয়েল লাইফ ভালবাসা।

অনন্ত জীবন যদি: জীবনানন্দ দাশ

অনন্ত জীবন যদি
জীবনানন্দ দাশ
~~~~~~~~~~~~~~~

অনন্ত জীবন যদি পাই আমি - তাহ'লে অনন্তকাল একা
পৃথিবীর পথে আমি ফিরি যদি দেখিব সবুজ ঘাস
ফুটে উঠে - দেখিব হলুদ ঘাস ঝরে যায় - দেখিব আকাশ
শাদা হয়ে উঠে ভোরে - ছেঁড়া মুনিয়ার মত রাঙা রক্ত - রেখা
লেগে থাকে বুকে তার সন্ধ্যায় - বারবার নক্ষত্রের দেখা
পাব আমি; দেখিব অচেনা নারী আলগা খোঁপার ফাঁস
খুলে ফেলে চলে যায় - মুখে তার নাই আহা গোধূলির নরম আভাস।

অনন্ত জীবন যদি পাই আমি - তাহ'লে অসীমকাল একা
পৃথিবীর পথে যদি ফিরি আমি - ট্রাম বাস ধুলো
দেখিব অনেক আমি - দেখিব অনেকগুলো
বস্তি, হাট - এঁদো গলি, ভাঙ্গা কলকী হাড়ী
মারামারি, গালাগালি, ট্যারা চোখ, পচা চিংড়ি - কত কি দেখিব নাহি লেখা
তবুও তোমার সাথে অনন্তকালেও আর হবে নাকো' দেখা।

February 07, 2009

শুধুই কি কথোপকথন??:: ৬ (শেষ পর্ব)

পরদিন রুদ্রর সাথে আবার কথা হল অনুর। বরাবরের মত কুশল জিজ্ঞাসা করে কোনো রকম ভনিতা ছাড়াই কথা শুরু হল।
--গতকালের কথা শেষ করেন।
--হুম্ম, আমি একজনকে খুব ভালবাসি। আমার অফিস কলিগ অপর্না। আমরা একসাথেই পড়াশুনা করেছি। সে আমার সিনিয়র। অর একটা বোন তোমাদের ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, ডাক নাম জয়িতা।
--তিনি কি জানেন আপনার ভাল লাগার কথা?
--না বলা হয়নি। যদি আমাকে ছোটভাইয়ের মত দেখে সে ভয়ে।
--তাহলে এখন কি করবেন? বলবেন না? বলে ফেলেন। আমার মত দেরি করে ফেললে আর হয়ত কখন বলাই হবে না।
--না বলব না। তুমি কাকে বলতে পারনি?
ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল দু’জনেই। কথা এড়িয়ে অনু বলল-
--এটা কোন কথা হল? আপনি কাউকে ভালবাসবেন অথচ জানাবেন না। at least, জানালে পরে হ্যাঁ না কিছু একটা তো জানতে পারবেন। বলেই দেখেন।
--না বলব না। কোনদিন বলব না।
--আজব! কেন বলবেন না?
--জানি না।
--আচ্ছা আমি আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করি?(পরিবেশ হাল্কা করার চেষ্টা)
--কর।
-- কালো না সাদা?
--কালো।
--অপর্না নাকি অন্যকেউ?
--অন্যকেউ।
--কেন?
--অপর্নাকে আমি পাব না। ওর একটা সম্পর্ক আছে।
--ও। কিন্তু আমার মনে হয় এটা ঠিক হচ্ছে না। আপনার বলা উচিত ওনাকে।
--হবে না কিছুই হবে না।
--আমি আপনাকে গতকাল একটা কথা বলেছিলাম মনে আছে কিনা জানি না। আপনার সাথে আমি আর কথা বলব না। আমি আজ থেকে চলে যাচ্ছি।
--তুমি কি আমার জন্যেই চলে যাচ্ছ?
--না আপনার জন্যে আমি কেন যাব? আমার মনে হচ্চে চলে যাওয়া উচিত।
--যাবার আগে তোমায় একটা অনুরোধ করতে পারি? নেক্সট সপ্তাহে আমার-----------
--কি? আপনার বার্থডে?
--নাহ তবে প্রথম “B” এর সাথে মিল আছে।
--বিয়ে? (এবার অনুর আকাশ থেকে পড়ার মত অবস্থা, এতটা আসা করেনি সে)
--হুম্ম বিয়ে। যাকে বিয়ে করছি তার নাম অনিন্দিতা। তুমি আসলে ভীষন খুশি হব। আচ্ছা তোমার না গেলে হয় না?
--ইশ এত্ত বড় একটা ভাল খবর আগে দেবেন না? ভাল খবর কেউ কি শেষে দেয়? আমি চেষ্টা করব কিন্তু কথা দিচ্ছি না। আমাকে যেতেই হবে। অনেক হল আমি এবার যাই।
--ইয়ে মানে তোমার ফোন নাম্বারটা কি পেতে পারি?
--নিশ্চয়ই। ০১৭............। আপনারটা প্লিজ?
--০১৭........., ভাল থেকো। খুব মিস করব তোমার মত ভাল বন্ধুকে।বিদায়।
--আপনি ও ভাল থাকবেন। বিদায়।
এখানেই এখন পর্যন্ত কথোপকথনের শেষ। অনু আর রুদ্র এখন পর্যন্ত জানে না আর কি কখনো তাদের কথা হবে কিনা।

## দুঃখিত। পোষ্টটা আবারো বড় হয়ে গেল। হয়ত শেষ হল এই কথোপকথন। পরে যদি তাদের আবার কথা হয় আপনাদের আবার জানিয়ে দেব। আপাতত এখানেই শেষ।

শুধুই কি কথোপকথন??:: ৫

--কেমন আছ?
--ভাল।
--আপনি?
--এইতো!
--আপনি কি জানেন, আজকে আমি আপনাকেই খুঁজছিলাম?
--আমাকে?? :O কি সৌভাগ্য বলতো আমার!
-- :) জানি না কেন, কিন্তু আজকে মনে মনে আপনাকেই খুঁজছিলাম।
--দিন কাল কেমন যাচ্ছে তোমার?
--ভালই তো।
তারপর অন্যান্যদিনের মতোই অনেকক্ষন চুপচাপ দুজনেই।
--কি ব্যাপার কথা বলছেন না যে? অনুই কথা শুরু করল কথা।
--তুমি বল...
--আমি কথা বললে কিছু পাব?
-- কি পেতে চাও?
--আপনি কি দিতে পারবেন?
--আমার যা সামর্থ তাই দেব।
--তাই?
--হুম্ম তাই।
--কফি খাবেন? আমি এখন কফি খাব।
--দিতে পারো।
--পার্থিব নাকি অপার্থিব?
-- আপাতত অপার্থিব।
-- :) ঠিক আছে। নিন তাহলে।
--ধন্যবাদ।
--কেমন হলো?
--খুব ভাল, দেখতে হবে না কে বানিয়েছে!
-- :D। payment নিয়ে কথা হচ্ছিল। বললেন না তো কি দেবেন।
--তুমি যা চাও তাই দেব।
--পার্থিব নাকি অপার্থিব?
--তুমি কি চাও?
--(অনেকক্ষন চুপ থাকার পর প্রসঙ্গ পালটে) আপনি কি একটা জিনিস জানেন?
--কি?
--আপনার অস্তিত্ব নিয়ে আমার সংশয় আছে।
--:O কেন?
--মনে হয় আপনি একটা অপার্থিব জিনিস। মাঝে মাঝে তো মনে হয় আমি কোন একটা মেশিনের সাথে কথা বলছি। কে জানে হতেও পারেন সেটা।
--আমি এম্নিতেই কম কথা বলি সেটাতো তুমি জান। তারপরেও এই প্রশ্ন কেন?
--মনে হল তাই বললাম। আপনি গান শুনেন?
--এটা একটা প্রশ্ন হল? Music ছাড়া বাঁচা যায়? তবে হিন্দি গান শুনা হয় না খুব একটা।
--হুম্ম। আপনার সম্পর্কে কিছুই জানা হল না।
--কি জানতে চাও। (একটু সতর্ক হয় রুদ্র)
-- এই যে আপনার ফ্যামিলি, কোথায় থাকেন এইসব।
--কি হবে এগুলো জেনে?
--কেন বন্ধু কি বন্ধুর খবর জানতে পারে না?
--হুম্ম। আমার বাবা-মা কিছুই করেন না। আমরা দুই ভাই। আমি ছোট।
---এই?? মানে এখানেই শেষ?
--হুম্ম। আর কিছুই জানানোর নেই। তুমি কিন্তু বললে না এতদিন কোথায় ছিলে?
--ক্লাস আর পরীক্ষা শেষে একটু বেড়াতে গিয়েছিলাম বন্ধুদের সাথে সিলেটে।
--খুব মজা করলে তাই না? আমাকে একবারের জন্যেও মনে পড়ে নাই?
-- না পরে নাই। কেন মনে পরার কথা ছিল নাকি?
--না এম্নিতেই বলছিলাম।
--আমি ভাবছি আপনার সাথে আর কথা বলব না।
--কেন?
--অই যে বললাম আপনার অস্তিত্ব নিয়ে আমি সন্ধিহান।
--তোমার সাথে যে আমার একটা কথা ছিল!
--বলেন বলে ফেলেন।
--আমি একজনকে খুব ভালবাসি কিন্তু বলতে পারছি না।
--কেন? সমস্যা কোথায়? ভাল লাগলে বলে দেয়াটাই তো ভাল আর সেটা আপনাকেই করতে হবে। (এমন সময় একটা জরুরী ফোন এল, কথা বলতে বলতে অনু বিদায় নেবার প্রস্তুতি শুরু করল)
--যাকে আমি ভালবাসি সে আমার চেয়ে বড়। আমার কলিগ!
--আজ একটু তারা আছে আমার। আজকে যাই।পরে আবার কথা হবে।
--ঠিক আছে। ভাল থেকো।
--আপনিও।

February 06, 2009

শুধুই কি কথোপকথন??:: ৪

---কেমন আছো?
---ভাল।
----কোথায় ছিলে এতদিন?
---একটু ব্যস্ত ছিলাম।
----খুব মিস করেছি তোমাকে…………
----ও।
----তুমি মিস করোনি?
----নাহ। মিস করার সময় কোথায়?
এরপর অনেকটা সময় কেউ কোনো কথা বলল না। কতটা সময় হবে? ২ মিনিট? না ১৫ মিনিট? এসময় কথা শুরু হল আবারো।
----কি ব্যাপার চুপ করে আছো যে?
----এমনিতেই
---কিছু বল.........
----কি বলব?
----তোমার কথা...
---আমার তো কোনো কথা নেই...
----কেউ তোমাকে খুঁজে পেলো?
----নাহ।( বিরক্তির প্রকাশ অনুর কন্ঠে)
----পড়াশুনার বাইরে আর কি কি কর তুমি?
----তেমন কিছু না, ছবি আঁকি, বই পড়ি। আপনি? (কিছুটা সপ্রতিভ)
----এইত মুভি দেখা, নেটে বসা সময় চলে যায়।
---একটা প্রশ্ন করি?
----হুম্ম করো।
---নাহ থাক আজকে না অন্য কোন দিন।
---আজকের কাজ কালকের জন্যে ফেলে রাখতে নেই।
---হুম্ম।
----মানে?
----নাহ পরেই করি। আপনার প্রিয় রঙ কি?
----লাল। তোমার?
----সাদা। প্রিয় ফুল?
---কৃষ্ণচূড়া। তোমার?
---রজনীগন্ধা।
---পড়াশুনা করতে কেমন লাগছে?
---ভাল। কেন?
----এমনিতেই।
---আচ্ছা আজ আসি পরে কথা হবে।

বলেই দেরী করলো না অনু, চলে গেল। ২৫ দিন পরে অনু আর রুদ্রর কথা হল আজ। অনেকদিন পরে কথা কিন্তু সেই প্রথমদিনের উত্তাপ কি আজ কোথাও হারিয়ে গেল? কোথায় ছিল অনু এতদিন? কিছু বলল না নাকি বলতে চাইল না??
(চলবে)

February 02, 2009

শুধুই কি কথোপকথন??:: ৩

** রুদ্রর হঠাৎ করেই মেয়েটাকে ভাল লেগে যায়। কোথায় যেন কি একটা আছে! প্রথমত মেয়েটার কথা বলার স্টাইল, আর দ্বিতীয়ত নিজেকে সামলে রেখে চটপট কথা বলে যাওয়া। কথা শেষ হতেই রুদ্রর চোখে-মুখে হাসি আর আশ্চর্য হবার মিশ্র অভিব্যক্তি। অফিস শেষ করার অনেকক্ষন পর্যন্ত মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল না। কি অদ্ভুত! মাত্র কয়েক লাইন কথা কিন্তু তার এতটা প্রভাব? রুদ্রর চেহারার এই আভা বন্ধু পলাশেরও নজর এড়ালো না। সেই প্রথম যখন বুয়েটে ভর্তি হয় তখন প্রথম এই আভাটা দেখেছিল রুদ্রর মুখে যেন চির আকাংখিত জিনিস পেয়ে গেছে। আজ আবার অনেক দিনপর, কি হল ছেলেটার?
বারান্দায় দাড়িঁয়ে আকাশটা দেখছিল রুদ্র। অনেক তারা আজ, ওরাও মনে হয় আজ উৎসব করতে এসেছে ওর সাথে। চোখে পড়া চশমাটা খুলে ঝাপসা হয়ে যাওয়া আকাশটাও আজ উজ্জ্বল লাগছিল তার। পলাশ যে তার পাশে এসে দাড়িয়েছে সেটা তার চোখেই পড়েনি। এখন সে খেলবে আর দেখবে মনে মনে ছক কষল সে।
--- কিরে কি হয়েছে?
---তুই কখন এলি?
---অনেক ক্ষন! তুই তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসছিলি।
---(চশমা মুছে, পড়ে নিয়ে) হুম্ম।
---নতুন কিছু হয়েছে নাকি রে?
---হয়েছে। বলেই হাসল। তারপর আবার বলল, কিন্তু কয়েকদিন দেখি তারপর তোকে জানাব।
---কি দেখবি? বলে দিয়েছিস নাকি ওনাকে?
ভুবন ভোলানো হাসি হেসে ঘরে ঢুকে বিছানায় বসল।
--- (কথা এড়িয়ে) এখনো কিছু বুঝতে পারছি না। তবে যদি কিছু হয়ে যায় তুই সবার আগে জানবি। সো আপাতত নো টেনশন। যা গিয়ে ঘুমা অনেক রাত হল। আমিও ঘুমাব। কাল আবার অফিসে যেতে হবে। বেরিয়ে এল দীর্ঘশ্বাস।
--বলিস কিন্তু। গেলাম আমি। :) বলেই পলাশ চলে গেল।

পরেরদিন অফিসে গেল মনে আনন্দ নিয়ে। নানান কাজের চাপে ভুলেই গিয়েছিল মেয়েটার কথা। রোজকার কাজ গুলো ঠিকঠাক মতো করে গেল। দুপুরের খাবার খেল তারপর বোর্ড মিটিং। সন্ধ্যায় একটু ফাঁক পেতেই একটা নাম মাথায় খেলতে লাগল অনুসূয়া। দারুন নামটা! এসময় সামনে দিয়ে চলে গেল অপর্না। ওর অফিস কলিগ। তার চলে যাওয়াটা দেখছিল সে। এক সময় ভুলে গেল অনুসূয়া নামটা। আজ আর কথাও বলা হল না। বাসায় ফিরেও তেমন কোনো কথা না শুধু রুটিন কাজ। পরের দিন খুঁজল সেই সুন্দর নামের মানুষটাকে। কিন্তু খুঁজে পেল না।

একটা একটা করে দিন কেটে যাচ্ছে। কিন্তু অনুসূয়ার কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। কোথায় গেল মেয়েটা? রেগে গেল? কে জানে কি হয়েছে? কাজের প্রচন্ড চাপে আস্তে আস্তে হয়ত বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে কিন্তু মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছে। মনে হচ্ছে এসে বলে গেল, ভুলে গেলেন? একটা, দুইটা করে পনেরটা দিন কেটে গেল......কোথায় গেল মেয়েটা?

January 31, 2009

শুধুই কি কথোপকথন??:: ২

সেদিন কথা শেষ করে আপন মনে অনেকক্ষন হেসেছিল অনু। কি আজব ব্যাপার! মানুষগুলো আজকাল কি হচ্ছে?? কথা বলতে আসলেই প্রথমে জিজ্ঞেস করে, boyfriend আছে? এটা কোন প্রশ্ন হল? খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেল আজ তার। ঘরের ছোট্ট জানালা দিয়ে হালকা বাতাস ঢুকছে, আকাশটা ভীষন রকম লাল, কাকগুলো ডাকতে শুরু করেছে। ছাদে পা দেবার সাথে সাথেই একটা পশলা বাতাস মনটাকে হাওয়ায় উড়িয়ে নিয়ে গেল। সকালের এই সময়টা খুব প্রিয় অনুর।

বেলা বাড়ল এক সময়। ক্লাস শেষে অন্যসব দিনের মত সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে। এই সপ্তাহের শেষে বেড়াতে যাবে সবাই। প্লান হচ্ছে।
--কিরে কই যাবি কিছু বল?
---দূর! পকেট খালি এইবার। ফয়সালের প্রশ্নে সুমিতের উত্তর।
---চল পুরান ঢাকাতে যাওয়া যাক এবার, কাছেই তো। অনুর প্রস্তাব
---এটাতো কাছেই, আর আমরা সবাই মিলে না হয় তোকে স্পন্সর করবো, পরে না হয় একদিন খাওয়াবি, তাহলেই তো হলো।
আতিকের কথা বলা শেষ হতেই ফয়সালের মুখের দিকে তাকিয়ে খুব হেসে দিল সবাই। আর সেটা দেখে সুমিত সহ বাকী সবাই। খুব মজা হয়েছে আজকের ল্যাবে। পর পর দুইটা ঘটনা!

সবাই সার্কিট ঠিক করার কাজে ব্যস্ত, কিন্তু অনু, ফয়সাল, সুমিত আর নুপুরদের সিগনাল আসছে না, এর মধ্যে দুই বার সুমিত আর ফয়সালের ঝগড়া হয়ে গেছে। স্যারের সাথে কথা বলে টুলে বসতে গিয়ে ফয়সাল দুম করে পরে গেলো। :)
একপাশ থেকে সুমিত আর একপাশ থেকে নুপুর ধরে ফেলায় ফয়সালের পুরোটা পরা হল না। ক্লাস এ স্যার শুদ্ধ সবাই হাসতে হাসতে ভিরমি খাবার দশা! সবচেয়ে বেশি হেসেছে মনে হয় অনু কারন কাজটা তারই করা ছিল।ফয়সাল রইল প্রতিশোধের অপেক্ষায়। অবশ্য অপেক্ষা বেশীক্ষন করতে হয়নি। অনু IC লাগাচ্ছে আর তার পিছনে ফয়সাল।

---দেখতো ঠিক আছে কিনা, সুমিতের দিকে তাকাল অনু আর নুপুর।
---আগে দেখ আউটপুট কেমন আসে? পিছন থেকে ফয়সাল।
---আসবে আসবে, ঠিক আসবে। আরে এখানে তো pulse নাই।
--- সমস্যা নাই, পেন্সিল দিয়ে দেয়া যাবে। অনুর উত্তর।
-- কিভাবে?
--- কিভাবে মানে? তুই জীবনেও পেন্সিল দিয়ে pulse দিস নাই মনে হয়। বলেই পিছনে ফিরল অনু আর দেখল স্যার হাসছেন আর ওর দিকে তাকিয়ে আছেন।
চমকে এমনি অপ্রস্তুত অবস্থা অনুর যে বুঝতে আর কিছুই বাকি রইল না। আরেকদফা হাসি শেষ হল।
আড্ডা শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে গতকাল রাতের কথা গুলো ঘুরে ফিরে মাথায় এল। মনে মনে নিজেকেই শোধরাল, মেয়ে পটানোর নতুন আইডিয়া!! মন্দ নয়,বলেই আপন মনে হেসে ফেলল অনু। তবে একটা কথায় আটকে রইল একটা কথায়.........

January 28, 2009

শুধুই কি কথোপকথন??:: ১

--কেমন আছো তুমি?
--হুম্ম, ভাল।
--আপনি?
--ভাল।
--কিসে পড় তুমি?
--তড়িৎ প্রকৌশলে।
--আমিও এই বিষয়েরই ছাত্র।
--ও আচ্ছা। কি করেন আপনি?
---আমি এখন জিপিতে জব করি। কোন ইয়ার চলছে তোমার?
--সেকেন্ড ইয়ার। আপনি কি বুয়েটের ছাত্র?
--হুম্ম। একটা প্রশ্ন করি যদি কিছু মনে না করো?
--হুম্ম।
--তুমি তোমার মনের কথা শোন নাকি মস্তিস্কের কথা শোন?
--মস্তিস্কের কথা শুনি। কেন?
--তোমার নিশ্চয়ই কোনো ছেলেবন্ধু নেই, তাই না?
--( রেগে) নেই তো কি হয়েছে?
--নাহ কিছু হয়নি, আমারো না কোনো মেয়ে বন্ধু নেই। কি করি বলত?
--আমি কি জানি কি করবেন......
--তুমি রেগে যাচ্ছ।
--(নিজেকে সামলিয়ে) নাতো!
--শোন, মনের ভিতরটাকে আলোকিত কর। মনের কথা বুঝার চেষ্টা কর।
--ঠিক আছে কিন্তু আপনি আমাকে এসব কথা কেন বলছেন?
--আচ্ছা তোমায় কেউ কখন বলেনি ভালবাসি?
--সেটা আমি আপনাকে কেন বলব?
--খুজঁছ নাকি কাউকে?
--নাহ আমি কেন খুঁজব?? আজব!!
--আমিও না কাউকে খুঁজি না, কেউ চাইলে খুঁজে নেবে কি বল?
--
--তুমি কথা বল। smiley দিবা না আমি পছন্দ করি না।
--ওহ, sorry!
--হুম্ম তাইত উচিত।
--খুঁজ না কিন্তু ঠিক আছে?
--দেখা যাক।
--আজ যাই। পরে দেখা হবে আবার।
--ঠিক আছে।

এখানেই সেদিনের মতো কথা শেষ।

January 27, 2009

ছুটির কড়চা!

অনেকদিন ব্লগে অনুপস্থিতির জন্যে অনেক কিছু মিস করেছি। প্রথমে গত ঈদ এ গল্প লেখা, নির্বাচনের আমেজ, আর নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা- সমালোচনা, মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্য, ব্লগারস মিট আপ সহ আরও কত কি! যাই হোক এক মাসের ছুটিকে বিদায় দিয়ে এখন আবার পুরানো ব্যস্ত সময়ে ফিরে আসা। আমি কি করেছি এত দিন? অনেক কিছু আবার কিছুই না।

বাসায় গিয়ে দেখি এবারো যথারীতি আমার কিছু বই গায়েব হয়ে গেছে। কোথায় গেল প্রশ্ন করতেই মা র উত্তর আমার এক দাদা এসে নিয়ে গেছেন। নাম শুনেই বুঝলাম বই ফেরত পাবার আশা খুবই কম যদি না আমি কিছু বলি। মনে মনে ফন্দি আটঁতে লাগলাম যক্ষের ধন ফেরত পাবার জন্যে। নতুন গল্পের বই পড়া শুরু করলাম। সাথে কিচু লেখা-লেখির বৃথা চেষ্টা। টুকটাক যাই লিখি পরে দেখা যায় নিজের পছন্দ হচ্ছে না। এডিট করা, কখনো আবার লেখা। গল্পের একটা প্লট মাথায় ঘুরছিল অনেকদিন ধরেই। একদিন রাতের বেলা খাবার সময় মাকে বললাম। গল্পটা শোনালাম। মানে ওই layout টা। শোনানোর বলল, প্লটটা ভাল কিন্তু ঠিকঠাক মত লিখতে হবে। উৎসাহ বেড়ে গেল। কিন্তু ওখান পর্যন্তই।

অনেকদিন পরে বাসায় তাই একদিন এর সঙ্গে নয় ওর সঙ্গে দেখা কর। সবচেয়ে মজা লেগেছিল মামার বাসায় গিয়ে। প্রজ্ঞা আর পৃথা আমার দুই মামাত বোন। ওদের আবার আমার সাথে খুব খাতির। কি করেছে না করেছে সব বলা চাই, আর আমি কি করছি তার ও খবর নেয়া চাই। প্রজ্ঞা স্কুলে ভর্তি হল এবার। কি দেয়া যায় তাই নিয়ে মা আর আমার বিস্তর গবেষনা করতে হল। মা কিছু বলছে আমার পছন্দ হচ্ছে না। আবার আমি কিছু বলছি মার পছন্দ হচ্ছে না মাঝখানে হয়ত বাবা কিচু বলল আর আমাদের দুজনের সেটা পছন্দ না হওয়ায় বাবাকে কড়া করে ধমক। তারপর প্রজ্ঞার জন্যে একটা ঘড়ি কেনা হল। আর সেটা পেয়ে আমার ছোট্ট বোনটা বেজায় খুশি। মামার বাড়িতে গেলাম অনেক দিন পর মনে হয় বছর খানেক পর।

আরো একটা মজার ব্যপার ছিল। আমি এবার নতুন ভোটার। নির্বাচনের দিন সকালে ঘুম ভাংগল মুঠোফোনের বার্তায়। তাতে লেখা “Happy Election Day”. ভোট দিতে গিয়ে দেখলাম মানুষ যেন ঈদ করছে। দুপুরে গেলাম ভোট দিতে ভাবছিলাম হয়ত ফাঁকা থাকবে কিন্তু গিয়ে দেখি মানুষের হাঁট। খুব মজা লাগল!

অনেক দিন পর আমার স্যারদের দেখা করলাম। এক কথায় যেন আবার ফিরে যাওয়া। স্যারদের সাথে দেখা হওয়ার পর কয়েকজন এলেন বাসায়। প্রিয় শিক্ষকদের অনেকদিন পর দেখে মজা লাগছিল খুব। আমার আবার স্যার দের ব্যাপারে খুব খুঁতখঁতে স্বভাব সবসময়। স্যার পছন্দ না হলে আমি স্যার এর কাছে পড়ব না। মা-বাবা আমার এই অভ্যাসটা নিয়ে খুবই বিরক্ত। কোন স্যার যদি আমাকে পড়াতে আসেন তো আমি আগে স্যার এর চেহারা দেখব, স্যার কে দেখে যদি মনে হয় ইনি স্যার এর মত দেখতে তাহলেই আমি পড়ব। আমার কথা হল একজন শিক্ষক কে দেখে যদি আমার শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছে না হল তাহলে আমি পড়ব কি করে? HSC তে পড়বার সময় রসায়ন নামক বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই ভয়ে ছিলাম। তো মা আমার জন্যে একজন কে বললেন পরীক্ষার আগে একমাস আমাকে জেন একটু দেখিয়ে দেন। স্যার কে দেখে আমার পছন্দ হল না। ব্যস, মাকে বললাম আমি পড়বনা। এটা কোন স্যার হল? মাতো রেগেমেগে সেরকম অবস্থা। মনে আছে স্যার যেদিন শেষ পড়ালেন সেদিন আমাকে বললেন, আচ্ছা তুমি আমাকে teacher হিসেবে মানতে পারছ না কেন? আমি উত্তরে বলেছিলাম, স্যার সেরকম কিছু না। তবে আমার স্যারদের দেখলে শ্রদ্ধা করতে ইচ্চে করবে, জানতে ইচ্ছে করবে, পড়তে ইচ্ছে করবে কেন যেন আপনার কাছে পড়তে বসলে আমি সেরকম কিছু খুজে পাইনা। কিন্তু আপনি ভাল পড়ান, আপনি যা পড়িয়েছেন অনেক ভাল পড়িয়েছেন। স্যার অনেকক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন আমার দিকে, তারপর বললেন, তোমাকে পড়াতে পারলে ভাল লাগত কারন তুমি জানতে চাও। যাবার সময় মাকে বলে গিয়েছিলেন আমার পড়াশুনার দিকে মা যেন খেয়াল রাখেন।

এই যে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি কিন্তু আমার এই স্বভাব যায়নি। কোন স্যারকে ভাল না লাগলে আগের মত না হলেও আমি বন্ধুদের কাছে বলে ফেলি। তবে এই স্বভাবের জন্যে কিন্তু কখন ঠকিনি এখন পর্যন্ত, বরং লাভ হয়েছে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় যত শিক্ষকের কাছে পড়েছি তাদের good book এ নাম লিখিয়েছি। মাঝে মাঝে আমার সহপাঠীরা খুব অবাক হয় যখন দেখে কয়েক সেমিস্টার আগে ক্লাস করা স্যাররা আমাকে দেখে কেমন আছো জিজ্ঞেস করেন, নাম জানেন। আমার ডাক্তারী পড়ুয়া বন্ধু রুবী বলে, আমাদের চেহারা মনে হয় এমন তাই এত খারাপ অবস্থা! ঠিক যেন নজরুলের গান, “আমারে দেব না ভুলিতে”।

ছুটি শেষ, আবার ব্যস্ত দিনের শুরু। দেখতে দেখতে একটা সপ্তাহ কেটে গেল। আরো একটা নতুন বছর, নতুন প্রত্যাশা। দিন বদলের অপেক্ষায় আমরা সবাই।