March 01, 2009

শুরুতো হলো, এবার?


চারদিকে থই থই জল, এর মাঝে একজন প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছেন। পাশে শুধু ডাক্তার আর একজন নার্স। স্বামী মানুষটি বাইরে অপেক্ষা করছেন। বাইরে বন্যার জল, আর থেমে থেমে বৃষ্টি। এর মধ্যেও বাড়িতে খবর পাঠানো হয়েছে। প্রসব বেদনায় কাতরানো মহিলাটি নিজে একজন ডাক্তার, মফস্বলে তার পোষ্টিং, যেখানে তার শ্বশুর বাড়ী। বৃদ্ধা শ্বাশুড়ি খবর পেলেন ছেলে লোক পাঠিয়েছে যাবার জন্যে। ভদ্র মহিলাটি না গিয়ে লোক মারফরত খবর পাঠালেন, যদি ছেলে হয় তবেই তিনি দেখতে যাবেন নচেৎ নয়।
সংবাদ বাহক যখন খবরটি মহিলাটির স্বামীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছিল তখন সদ্য মা হতে যাওয়া মানুষটাও কথাটা শুনতে পায়। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ফেলে, মেয়ে হোক অথবা ছেলে তাকে মানুষের মত মানুষ করে তুলবে সে। মেয়ে হলে তাকে পৌছে দেবার চেষ্টা করবে সফলতার চুড়ায়। যেন আজকে যে মানুষ গুলু তার অনাগত সন্তান কে এত কথা বলছে তারাই কাল তাকে নিয়ে গর্ব করবে, তার পরিচয়ে পরিচিত হবে। প্রতীক্ষার অবশেষে ছোট্ট একটা প্রান চিৎকার করে জানিয়ে দিল, আমি এসেছি। তার স্বামীর নির্দেশে লোক লজ্জার ভয়ে মেয়েটার শ্বাশুড়ি শেষ পর্যন্ত এসেছিলেন, হাজার হোক বংশের প্রথম সন্তান বলে কথা। কিন্তু ঐ যে মেয়ে, সেটা ভুলে যেতে না পারলেন শ্বাশুড়ি, না পারলেন সদ্য পৃথিবীতে আসা মেয়েটার বাবা। আজকে এই আমি, অনুসুয়া সেদিনের সেই মেয়ে, অনাহুত কিন্তু মায়ের স্বপ্নে লালিত।
মেয়েরা নাকি বাবা ঘেঁষা হয়। আমি তার উলটো। আমি মা নেওটা। বাবা অনেক চেষ্টা করতেন তার এই অনাহুত মেয়েটার প্রতি বিরাগ ভাব না দেখাতে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোথাও না কোথাও ধরা পড়ে যেতেন। বড় হতে হতে যেন মেনেই নিয়েছিলাম এই “অনাহুত” শব্দটি। আমার মেরুদন্ডটাকে শক্ত আর খাড়া রাখার জন্যে ওই একটা শব্দই যেন যথেষ্ট! কিন্তু মায়ের স্বপ্ন দেখা মন আমাকে দিয়েছে অন্যরকম হবার প্রেরনা, একটু আলাদা। তারপরেও আজকাল মনে হয় আমি খুব সাধারন। আমার মধ্যে কোন বিশেষ বলে কিছু নেই। আমি খুঁজে চলেছি সোলমেট, কিন্তু তারপরেও যখন খুব কাছেও বন্ধুরা বলে মানুষটা তো ৪ ফূটি কি দরকার এত বড় স্বপ্ন দেখার? একটু আস্তে পায়ের নীচে দেখ মাটি আছে কিনা এরকম হাজারো কথা।
কিন্তু আমি জানি, বিশ্বাস করি, আমার পায়ের নীচে মাটি আছে। আকাশে আমার মনটা অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিলেও আমি জানি আমার পা দুটি কখনো কাদা মাটিতে কখনো শক্ত-তপ্ত মাটিতে আছে। মনটা কে এখন এতটাই শক্ত করে ফেলেছি যে আজ আর চেনা শোনা মুখ, প্রিয় মানুষ গুলো, কাছের মানুষ গুলো যখন আমার মনের আকাশে মেঘ জমিয়ে দেয় তখন আর আগের মত মন খারাপ হয় না। ছোট ছোট নুড়ি পাথরের মত দিন গুলো পার হয়ে যায়। আমার কাজে দিন গুলো যেন আরো রঙ্গিন হয়ে উঠে আর আমার প্রিয় মানুষ গুলোর মুখগুলো ভরে উঠে অদ্ভুত এক আলোয়। এ কি আমি কখনো কিনতে পারব? না এমনি এমনি দেখতে পাব! এগুলো আমার কাছে অমুল্য। রঙ পেন্সিল, জাহাজের ডাক, জমকালো রাতের তারারা যেন আমার ফেরারি মনকে স্বপ্নের দেশে নিয়ে যায়। এর চেয়ে বেশী আর কি চাই?
ভাবছিলাম আমার গল্প বলব আপনাদের সবাইকে। কিন্তু দেখলেন তো শুরুটা কি রকম এলোমেলো হয়ে গেল। গল্পের শুরু করব কিভাবে তাই বলতে গিয়ে একগাদা অগোছালো কথা বলতে হল। ভীষন স্বপ্নবাজ আমি, আমার লেখিকা বন্ধুটি শিখিয়ে দিয়েছিল একদিন কি করে স্বপ্ন দেখতে হয়! আর বাস্তব পরিস্থিতি শিখিয়ে দিয়েছিল শত বাধা, কষ্ট সত্বেও কি করে স্বপ্নে বাঁচতে হয়, কি করে বেঁচে থাকতে হয়। জানি না আমার গল্প আপনাদের ভাল লাগবে কিনা। তারপরেও বলে যাওয়া। টুকরো টুকরো ঘটনা আর কল্পনার পাখনা জানি না আপনাদের আমার সাথে উড়িয়ে নিতে পারবে কিনা। আজ বিদায় নিচ্ছি। হয়ত আবার দেখা হবে।

এটাকে কি শুরু বলা যায়?



হাল্কা রোদের মাঝে ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বাতাসটা এত মৃদু যে, রোদের তাপটা গায়ে লাগতে পারছে না। রাস্তাটাও খুব নীরব, আশেপাশে মানুষজন খুব কম, যারা আছে তারাও নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। এক পশলা ধুলোবিহীন বাতাস এসে লাগল মুখে, পাশাপাশি হাঁটছি আমরা দুজন। এর আগেও আমরা হেঁটেছি, কথা বলতে বলতে হাঁটা। একটা পলাশের গাছের দিকে তাকিয়ে কিছুটা অন্যমনস্ক আমার লেখিকা।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি অত ভাবছ বলত? পলাশের দিকে ওভাবে তাকিয়ে আছ যে?
বসন্ত এসে গেছে প্রকৃতিতে, ওই যে দেখ! সত্যি ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক বসন্ত এসে গেছে। একটু হেসেই বলল, ভাবছিলাম তোমার কথা, তোমার গল্পের কথা। শুরুটা করব কিভাবে?
আমার জোরে হাসি শুনেই বলল, আরে বাবা রাস্তায় দাড়িয়ে আছ তাও কি মনে করিয়ে দিতে হবে নাকি? ? খুবতো বললে গল্প শোনাবে, এবার শুরুটাও শুরু করে দাওতো। হাল্কা অভিমানি সুর।
না না তা হবে না। আচ্ছা তোমার শুরু কোথা থেকে?
আমার জন্ম থেকে। কিন্তু আমি সেভাবে শুরু করতে চাই না। তোমার পল্পটা একটু অন্যভাবে শুরু হোক, একটু আলাদা ভাবে। সবার চেয়ে আলাদা তুমি। আচ্ছা তোমার সাথে আমার প্রথম পরিচয়টা কবে হয়েছিল বলতে পার?
হুম্ম খুব আছে। আমি মাথা নিচু করে বলি।
তখন আমি মনে হয় স্কুলে পড়ি। আমার লেখিকা বলে।
না না। স্কুলে না ভুল বললে। তোমার এস. এস. সি. পরীক্ষার পরে। স্কুলে আমি তোমার সাথে পরিচয় হতে চেয়েও আমি পারিনি। তুমি আমার দিকে কখনো ফিরেও তাকাতে না। খুব কষ্ট হতো তখন। তোমার উপযুক্ত হয়ে উঠতে কত না চেষ্টা করেছি আমি, একটানে বলে গভীর নিশ্বাঃস নেই আমি আর তুমি যে বললে পরিচয়ের কথা সেটা এর মধ্যে হয়ে গেছে। এবারতো শুরু করার পালা গল্প।
একটু ফাঁকা একটা জায়গা দেখে বসে পড়ি আমরা দুজনে।
একটা সময় ভাবতাম আমাকে দিয়ে বুঝিবা কিছুই হবে না। যখন পৃথিবীতে আসি তখন থেকেই নিজেকে সব সময় অনাহুত হিসেবেই পেয়ে এসেছি, দেখে এসেছি। তোমাকে দেখে আমি আবার আমাকে খুঁজে পেয়েছিলাম। স্বর্ণলতার মত তোমাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে উঠার চেষ্টা করতে শুরু করলাম। একটা বইয়ের দোকানে তুমি বই খুঁজছিলে। আমি একটু সুযোগ পেয়ে তোমার কাছে গিয়ে তোমায় বললাম, তিন গোয়েন্দার বই পড়তে পার। তূমি আমার দিকে তাকিয়ে বললে, তোমার যা ভাল লাগবে সেটা আমারও যে ভাল লাগতে হবে তার কোন মানে নেই। আমার রবি ঠাকুরের “ডাকঘর” ভাল লেগেছে আমি ওটাই নেব। তুমি চাইলে এটা কিনতে পার। আমি সেদিন কোন বই কিনিনি। বলেছিলাম, তোমার একটু সময় হবে? যদি কিছু মনে না কর তো একটু কথা বলব। তুমি সেদিন না বলনি আর তাই আমি আজ তোমার সাথে। তারপরে কিছুক্ষনের নীরবতা।
একটু পরেই আবার, তুমি অনেককিছুই জান না। তোমার সাথে আমার কথা বলার যে কি আগ্রহ ছিল বলে বুঝাতে পারবো না। ইচ্ছে ছিল তোমার সাথে আমি বন্ধুত্ব করব। তুমি আমাকে যেন চিনতেই না! সেদিন কথা বলতে বলতে বুঝেছিলাম আকাশের মত তুমি, নদীর জল যেমন করে বয়ে চলে ঠিক তেমনি তুমিও বয়ে চল আর আমাকেও তুমি ভাসিয়ে নিয়ে গেছো তোমার স্রোতে। গাছে ফুল ফোটে আবার ঝরেও যায়। তুমিও ঠিক ওই ফুলটার মত, কিন্তু তুমি ঝরে গেলেও মনে একটা গভীর ছাপ রেখে যাও এবং তুমি আমাকেই এটা শিখিয়ে দিয়েছো এত দিনে। মনের কথা গুলো কাউকে বলার সুঝোগ হয়ে উঠেনি। ভাবতাম কি করে বলতে হয়। কিন্তু ওই ভাবনাতেই আমার সারা, মুখ ফুটে বলা হয়নি।
আবার আমরা হাটঁতে শুরু করেছি আমরা। মাথার উপর দিয়ে একটা প্লেন ঊড়ে গেল। তোমার মনে আছে আমরা দুজনেই ভাবেছিলাম ওই আকাশে উড়াল দেব। আকাশে নিজেদের ঘর বানাবো। তুমি স্বপ্ন দেখতে আর আমাকেও দেখাতে। ধানের খেতের মাঝের চিকন আইল ধরে অনেকটা পথ হেটেছি আর অনুভব করেছি প্রকৃতি কথা, সুর। কখন যদি ভুলে আমাদের আড়ি হয়ে যেত তুমি আথবা আমি যে কেউ গিয়ে আগে কথা বলতাম। হা হা হা হা হা।
আড়ি আড়ি/ বন্ধু তোমার সাথে আড়ি আড়ি/ বড্ড তোমার তাড়াতাড়ি/ তুমি থাক না অবেলায়/ আমি একা জানালায়, সন্ধের আগে সুর্যের মত পশ্চিমে দাও পাড়ি। বিড়বিড়ি করে গেয়ে উঠি দুজনে।
বন্ধুত্ব টা আসলেই আমাদের ওরকম। পাশাপাশি হেটে চলা, ঠিক যেন ছায়াটি। আচ্ছা অনেকটা তো হল আমার কথা বলা। এবার বলতো তোমার গল্প, লেখিকা শুধায়।
আমি বলি বন্ধু তুমি যার নাম দিয়েছ অনুসুয়া তার গল্পটাতো এভাবেই শুরু করতে হবে। রঙ জিনিসটা চিনতে আমার অনেক সময় লেগেছিল। গাছের নিচে বসে অলস সময় কাটানোটা আমার জন্যে ক্লান্তির কাজ ছিল। পথ ছিল, রথ ছিল, চলে যাওয়া ছিল কিন্তু কিভাবে পথিক হতে হয় জানা ছিল না। পথে হাজারো মুখ ছিল তার আড়ালে ছিল হাজারো সুখ-দুঃখের সাতকাহন। কিন্তু এর মাঝে চেনা স্পর্শ গুলোকে চিনতে আমার সময় লেগেছিল। হাসির আড়ালেও যে একটা নিস্তব্ধতা থাকতে পারে বুঝিনি অথবা বুঝতে চাইনি। পাথর হয়ে যেতে যেতে আবার ফিরে এসেছি। জোনাকির আলোতে মনকে হারিয়ে ফেলি, আবছায়া জানালার কাঁচে আজ আমি রূপকথার ছবি আকিঁ। ছলছল হাওয়ায় খুঁজে ফিরি পুরানো আঙ্গুলের ছোঁয়া। কি পারবেতো এবার আমার গল্পের শুরুটা করতে?
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে হারিয়ে যাই আমরা, হয়ত সেই জমকালো চাঁদের দেশে। মন হয়ে যায় ফেরারী, কে জানে হয়ত বেজে গেছে টেলিফোনের ঘন্টাটা!

February 28, 2009

Bangladesh On Crisis


গনকবর

গনকবর

wating for their nearest one

.............

crying for dearest one

গনকবর

people are working to find out ARMY officers










February 27, 2009

আমার গল্প .....................


আমি সদ্য কৈশোর পেরুনো এক কন্যা। স্বপ্ন দেখতে আমি খুব ভালবাসি, ভালবাসি কুয়াশার ভোরে শিউলি ফুল কুড়ানো, প্রচন্ড রোদে পিচ ঢালা পথে হেঁটে চলা আর উরন্ত বলাকা। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন আমি উরন্ত বলাকার হব। আকাশ ছেড়ে পারি দেব আকাশের অপর প্রান্তে। আমি মানুষটা শুধু চার ফুট ১০ ইঞ্চি, গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামলা। কৃষ্ণ আমার প্রানের সখা। মেঘে ঢাকা আকাশের নিচে বয়ে চলা উদ্দাম বাতাসে এলোচুল খুলে দৌড়তে আমি খুব ভালবাসি। কখন আপনারা অনেক তারাভরা আকাশের নিচে নদীর বয়ে চলা দেখেছেন? অথবা দেখেছেন বিষন্ন কোন বিকেলে নদীর মাঝে বসে তার ঠিকানাবিহীন বয়ে চলা? আমি দেখেছি, না না আমি অনুভব করেছি। হৃদয় দিয়ে ধারন করেছি বাতাসের গন্ধ, তাদের না বলা কথা, দূর থেকে ভেসে আসা কোন সুরের মুর্ছনা। পাগল ভাবছেন আমাকে? হুম্ম একটু পাগল আছি বটে কিন্তু তারপরেও আমার আশেপাশের মানুষ গুলু আমায় এত্ত ভালবাসে যে আমি অবাক হয়ে যাই। যদি আপনাদের সদয় অনুমতি পাই তবে মাঝে মাঝে এসে আপনাদের আমার গল্প শুনিয়ে যাব। আমার কথায় কথায় আপনাদের নিয়ে যাব হয়ত কখনো অনুভব না করা, হয়ত না ছোঁয়া কোন প্রকৃতির বুকে, না দেখা একটা দেশে, স্বপনের দেশে যেখানে বাস্তবতা বড় নির্মম। কি যাবেন তো আমার সাথে?

ইশ দেখুন তো কান্ড? আমি এখন আমার নামটাই আপনাদের জানাই নি। আমি?? কি নাম দেই বলুন তো? আচ্ছা আমার নাম আজ দিলাম আমার লেখকের এবং তার সবচে ভাললাগা মানুষের প্রিয় নাম অনুসূয়া। ভাবছেন আমার অন্য দুই সখি কোথায়? আরে আমি কি শকুন্তলার সখি নাকি? হুম্ম তবে আমার সখি আছে, চারপাশে অনেক মানুষ আছে, না বলা অনেক কথা আছে, একটা ঠিকানা আছে, একটা ভোরের অপেক্ষা আছে আপনাদের সবার মত। সকালে জেগে উঠা নতুন সুর্য, দিনের পাখিদের ছুঁইয়ে যাওয়া, গোধুলীর আলোর মিষ্টি হাসি, একলা চাঁদ সাথে একলা রাত। অনুমতি পেলে এখন থেকে সব কিছুর নির্জাস আমরা সবাই একত্রে নেব। জানিয়ে দেব আমার না লেখা কোন চিঠির একা ডাকবাক্সে পড়ে থাকার গল্প, একা চিঠি আর একা থাকা সুর, অজান্তে ছুঁইয়ে যাওয়া কারোর চোখের নীল, ইথারে ভেসে আসা কোন ভাল লাগার গল্প। শুধু এখন অপেক্ষা আপনাদের অনুমতির। কি পাব তো? গল্পের নামটা আপনার অনুমতি দিলে পরেই দেব। আমি অপেক্ষায় রইলাম……………..

ব্যস্ত দিনের কথাঃ৩

আজকাল বড্ড বেশী ঘুম কাতুরে হয়ে গেছি আমি। খালি ঘুমাতে ইচ্ছে করে। সকালে ঘুম ভাঙ্গানোর জন্যে একবার মামনি, একবার বাবা, একবার দাদা ফোন করে। আমি এই উঠছি বলে আবার ঘুমিয়ে পরি। আশার কথা যে এই সেমিস্টারে আমার সকালে ক্লাস মাত্র একদিন, রবিবার। আর ছুটি?? বলব না। কারন শুনলে আপনারা জেলাস ফিল করবেন। তবে ছুটির দিন গুলোতেও আমি ব্যস্ত থাকি কোন না কোন কাজে।
আজকে বসে বসে লিস্ট করছিলাম কি কি এখন ব্লগার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করিনি। লিস্ত এর মধ্যে প্রথমে ছিল স্বরস্বতি পুজা, তারপরে বসন্ত আর তারপরে ভালবাসা দিবস। তারপরে যেটা ভাবলাম সেটা হল কে কি লিখেছেন পড়া হয়নি। এক সপ্তাহ কম কথা! আর আমি যা আলসেমি শুরু করেছি কোনটা রেখে কোনটা পড়ি?
আজকে সারাদিন বসে বসে খালি গান শুনেছি। আমার সব সময়ের সঙ্গী মিউজিক সেটা গান হোক অথবা ইন্সট্রুমেন্টাল, বই আর মাঝে মাঝে আমার 6B পেন্সিল। যেটা বলছিলাম একটার পর একটা গান শুনেই চলেছি। বিকাল পর্যন্ত শুনেছি রবীন্দ্রনাথের গান তাও আমার প্রিয় শিল্পী বন্যা দি’র কন্ঠে। আজকে আমার সংগ্রহে থাকা প্রায় অনেক গুলো গান শুনেছি। গান শুনতে শুনতে ভাবছিলাম যে পড়া নিয়ে বসবো।কিন্তু কিসের কি! মডার্ন ফিজিক্সের বই বাদ দিয়ে নিয়ে বসলাম উপন্যাসের বই নিয়ে। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের “অন্য বসন্ত”র প্রথম গল্পটা শেষ করলাম। আমার পড়ার টেবিলে এখন ৩টা বই পড়ে আছে, আর রুমমেট দেরও কিছু বই আছে। অনেক বই জমে গেছে তার উপরে বই মেলা থেকে কেনা বইতো আছেই! আমার রূমমেট গুলা মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত করলেও আমাদের একটা দিকে খুব মিল আর সেটা হল বই পড়া। একদিন আমি কি যেন কাজ করছিলাম, হঠাৎ শুনি কে যেন কাঁদছে। অনেক রাত তখন, প্রথমে পাত্তা দেইনি কিন্তু একটু পরেই শব্দটা একটু বাড়তেই পিছনে ফিরে দেখি আমার এক রুমমেট কাঁদছে! কি রে কি হয়েছে? চিন্তিত আমরা অন্য দুজনের প্রশ্ন। তখন দেখি সে বই পড়ছে আর কাঁদছে। বইটা সম্ভবত ছিল আনিসুল হকের “মা”। এমনি অনেক ঘটনা আছে আমার রুমে! এবার যা নিয়ে কথা বলছিলাম সেখানে ফিরে আসি। গান শুনছিলাম, এখনো শুনছি। তবে এখন শুনছি গজল তাও আবার জগজিৎ সিং এর। তাও আবার প্রিয় একটা গান, সরকতি যায়ে রুখ সে নাকাব আহিস্তা আহিস্তা, নিকালতা রাহা হে আফতাব আহিস্তা আহিস্তা। সুরটা প্রচন্ড প্রিয়। তবে একটা গানেই বার বার আমি আটকে যাই,
এই উদাসী হাওয়ার পথে পথে মুকুল গুলি ঝরে,
আমি কুড়িয়ে নিয়েছি তোমার চরনে দিয়েছি….
কি কারনে জানি না তবে রবিঠাকুরের এই গানটা আমার খুব ভাল লাগে। চেষ্টা করি একবার হলেও শুনতে। মন খারাপ বা কোনকিছু করতে পারছিনা তখনি আমার আশ্রয় রবিঠাকুর। আজকে গানটা শুনতে শুনতে অনেক পিছনে চলে গিয়েছিলাম। মনে পরে গিয়েছিল প্রথম ভাললাগার কথা। সেকথা না হয় পরে অন্যকোন একদিন শোনাব আপনাদের। কি যে জাদু আছে রবিঠাকুরের লেখায় আমি জানি না। কিন্তু চুম্বকের মত খালি আমকে টেনে ধরে। বাঙ্গালী মাত্রেই মনে হয় রবিঠাকুর টানে।
পড়তে বসেছি কিন্তু চোখের সামনে ফেসবুকের পেইজ টা খোলা। বন্ধুদের বসন্তের ছবি গুলো দেখছিলাম। খুবই সুন্দর!
এর মাঝে আমরা রুমমেটরা বই নিয়ে সমালোচনা করে গেলাম। কোন বই কেমন! এভাবেই চলে গেল আরো একটা দিন!
অথচ ব্যস্ত দিন গুলোতে কি যে কষ্ট হয়! ক্লাস, পড়া, পরীক্ষা। কিন্তু সপ্তাহ শেষের দিন গুলো এলেই আমার কেন জানি ভাল লাগে না। খালি ঘুম আসে। আমার এক রুমমেটতো প্রায়ি বলে, কি আছে জীবনে এই ঘুম ছাড়া! শুনে আমরা হাসলেও কথাটা একেবারে মিথ্যে নয়। ঘুম, কাজ, ছুটে চলা প্রতি মুহুর্তে আর খাওয়া এই হল আমাদের জীবন। তারপরেও একটু হাসি একটু কান্না, একটু বিষন্নতা, টুকরো টুকরো অভিজ্ঞতা, মজা যেন বেঁচে থাকার লোভকে বাড়িয়ে দেয় হাজার গুন!

February 26, 2009

কি দেই এর শিরোনাম?

অনেকদিন পর লিখতে বসেছি। ভাবছি কিছু লিখব। আজ ওই ভাবনাতে আমার শেষ। সেটা কীবোর্ড দিয়ে আর মনিটরের পাতায় লেখা হচ্ছে না। সাজছে না নতুন কোন রুপে। লিখব তো ঠিক আছে কিন্তু কি নিয়ে লেখা যায়? ভাবছি, একের পর এক আইডিয়া আসছে মাথায়, ওই মাথাতেই থেকে যাচ্ছে। ঠিক যেন মনের মত হচ্ছে না। তাই ভাবলাম আমার এই না লিখতে পারার অপারগতা নিয়েই আজ লিখব। কিন্তু তাতেও আমার অস্বস্তি, লিখব কি লিখব না। লিখতে গিয়েও কয়েকবার থমকে গিয়েছি, মুছে দিয়েছি, আবার শুরু করেছি, আর নিজেকে শাসন করছি।

আমার লেখার শুরুটা হয় ডায়েরী লেখা দিয়ে। স্কুলে পড়বার সময় ছোটদের পাতায় লিখেছি ছদ্মনামে। বড় হয়েও লিখেছি। যখন কলেজে পড়ি চিঠি লিখতাম, আমার দুই বন্ধুর কাছে। খুব ভাল লাগত। একটা সময় ভেবেছিলাম, মানুষ মনে হয় চিঠি লেখা ভুলে গেছে। ভুল ভাঙ্গে যখন প্রথম আলোর ছুটির দিনের একটা কুইজ জেতার পর বাসায় চিঠি আসতে থাকে। অনেক অনেক চিঠি, প্রতিটা আলাদা এবং বিষয় বস্তুতেও একটু পার্থক্য থাকে। পড়েছি আর হেসেছি। উত্তর দেইনি কাউকে আবার কাউকে উত্তর দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। আর আজ আমি লেখার বিষয় খুঁজে পাচ্ছি না।

কি নিয়ে লিখি? কাউকে সামান্য জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে থেমে যাওয়ার কথা? নাকি নিজের না পাওয়ার-পাওয়ার ব্যর্থতার কথা? কিন্তু লিখব এটা যেন আমি জানি। সেদিন একবন্ধু যাকে কিনা আমি রীতিমত আমার লেখা গুলোর লিঙ্ক দিয়ে দিয়ে পড়াই। আজকাল উনিও প্রায়ই জিজ্ঞেস করেন কি লিখলে নতুন? আমিও লিখলে লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে লিঙ্ক টা দিয়ে অপেক্ষা করি বন্ধুটির মন্তব্যের আশায়। একদিন একেক রকমের কথা, কখনো সমালোচনা, কখনো প্রশংসা। একদিন হঠাৎ করেই বললেন, বন্ধু তোমার মনে আছে তুমি লিখেছিলে কয়েকটা টুকরো লেখা “নামহীন তুমি”, “আবারো তুমি”….তোমার ওরকম লেখা গুলো আমার খুব ভাল লাগে। এখন কেন লিখ না ওরকম লেখা? আমি অবাক হই আর বলি, আপনার ওই লেখা গুলো সত্যি ভাল লেগেছিল? ও গুলু ছিল আমার writers block থেকে বের হয়ে আসার ঠিক ঠিক পরের লেখা। আমার নিজেরই ওই লেখা গুলো ভাল লাগে না মনে হয় এডিট করি।আমার মা লেখা গুলু দেখে বলেছেন, আরো একবার দেখো লেখা গুলো। এডিট করা দরকার। কিছু এডিট করতে গিয়েই আবার পড়লাম ঝামেলায়, একজন বলে, কেন করলে তো আর একজন বলে আরো একটু কাটাকাটি দরকার। শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে আমি বলি, দূর ছাই লিখব না আবার ওগুলো। যেমন আছে তেমনই থাক।

বাহ, নিজের কাজে আমি আজ নিজেই অবাক। কি মজা অনেক খানি লিখে ফেললাম। কিন্তু কি দেই শিরোনাম? প্রথম আলো অফিসে যেদিন গেলাম, মাহাবুব ভাই বলেন লিখেন না কেন? আমি বলি লিখিতো। আর আজকে লেখার কোন বিষয় পাচ্ছি না, অথচ কিছুদিন আগেও ভেবে রেখেছিলাম কি নিয়ে লিখব। কি অদ্ভুত আমরা! কি অদ্ভুত আমাদের মন! কখন যে কি চায় কিছুই বোঝা যায় না। সত্যি মানুষের মন বোঝা বড় দায়!

একটি অব্যক্ত ভালবাসা এবং আমি...............

---ইশ কতদিন তোমায় দেখিনা বলতো? তোমার গায়ের গন্ধ শুকি না?
---দূর পাগল!
---সত্যি, তোমার গায়ে একটা অদ্ভুত গন্ধ আছে, আমি নাক দিলেই পাই। মিষ্টি একটা গন্ধ। আমি গায়ে নাক শুকি আর বলি। আর সে হাসে। ভারি মিষ্টি সে হাসি। ঘরে ফিরে যখন তার মুখের এই হাসিটা দেখি অনেকদিন না দেখতে পাওয়ার কষ্ট গুলো যেন নিমিষেই বিদায় নেয়।
---তুমি কিন্তু এখন বাইরের কাপড় ছাড়নি। একটু রাগি কন্ঠে আমাকে হুঁশিয়ারি জানায়।
---এই রে! ভুলেই গিয়েছিলাম। ভীষন আলসেমি লাগছে। একটু পরে ছাড়ি?
---দেরী করলেই দেরী হবে। তুমি কি এখন ছোট্টটি আছ? আচ্ছা ঠিক আছে এসো আমি হেল্প করি।
আমি লজ্জায় সরে আসি। বলি, দূর কি যে বল না? আমি বুঝি পারি না? আচ্ছা যাই। কিন্তু ভীষন ক্ষিদে পেয়েছে আর অনেক কথা বলার বাকি, পেটে কথা আর ক্ষিধা দুটোই ভীষন কষ্ট দিচ্ছে।
---এত কথা না বলে আগে ফ্রেশ হয়ে নাও।

ফ্রেশ হয়ে আসতে আসতে আমার খাবার রেডি।
--- খাইয়ে দাও।
---বাচ্চা আছো এখনো?
--- আচ্ছা খাইয়ে দিতেই তো বললাম। এতে ছোট বড়র কি আছে? যাও দিতে হবে না।
----এখন খাও, হাতে অনেক কাজ পরে আছে। রাতে খাইয়ে দেব।
খাওয়া শেষে পায়ে পায়ে ঘুরতে শুরু করা। এতদিন কি হয়েছে, নতুন বন্ধু কারা, পড়াশুনার খবর, মজা করার খবর, কে কি বলল, ইথারের সম্পর্ক, লেখালেখির খবর বলার শুরু। অনেক রাত হয়ে গেলেও কথা আমার শেষ হয় না। পাশে শুয়েও গল্প করতে করতে ঘুমানো চাই। এমন অনেক বার হয়েছে, আমি গল্প করছি আর একটু পরে শুনি ওর দ্রুত নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ।

ছুটি শেষে ফেরার সময় আমি বলি, এই তোমার ঠিকানাটা দাওতো, তোমাকে চিঠি লিখব।
--সময় পাবে চিঠি লেখার?
---সময় খুঁজে বের করব। আগে তো তুমি অনেক চিঠি পেতে, এখন না হয় আমার কাছ থেকেই পেলে।
----ঠিক আছে লিখ। কিন্তু তোমার সাথে তো প্রতিদিন আমার ফোন এ কথা হয়।
---তাতে কি হয়েছে? তাই বলে কি চিঠি লেখা যাবে না? আর তাছাড়া কিছু কথা মুখে বলা যায় না। সেক্ষেত্রে চিঠির মাধ্যমে বলাটা অনেক সহজ।
“উফফ, তোমাদের এত কথা কেন বলতো, এখন আবার চিঠি দিতে হবে? বাসায় আসলে মুখে খই ফোটে তারপরেও কথা শেষ হয়না এখন আবার চিঠি! তোমাদের নিয়ে আর পারা গেল না।” পাশ থেকে বাবার কথা শুনে মুখে আমাদের দু’জনেরি হাসি। বাবার গলা জড়িয়ে ধরে আমি বলি, আচ্ছা বাবা তুমি কি খুব জেলাস ফিল কর?” “নারে করি না। তোমরা দু’জন দু’জনকে এত ভালবাস কিন্তু পরে আবার ভুলে যাবে নাতো?” দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে বাবার বুক থেকে। আমরা দু’জন হঠাৎ করেই চুপ হয়ে যাই।
আমার জন্মের সাথেই এই ভালবাসার সম্পর্কটার শুরু, আমার মা-বাবার সাথে। এখন যখন একা থাকি তখন খুব ভাবি এদের কথা। শনিবার, বিশ্ব ভালবাসা দিবস। আচ্ছা, ভালবাসা দিবস কি শুধু জুগলদের জন্যে? এই ভালবাসার কি কোন স্থান সেখানে নেই? বাবা-মা কে কখন বলা হয়নি তাদের কে যে কতটা ভালবাসি, কারন মনে হয় এটা একটা অনুভুতির ব্যাপার, যেটা অনুভব করতে হয়। ভালবাসা দিবসের লেখা আহবান করা হয়েছে। আর এটা হচ্ছে এই পর্যন্ত আমার রিয়েল লাইফ ভালবাসা।

অনন্ত জীবন যদি: জীবনানন্দ দাশ

অনন্ত জীবন যদি
জীবনানন্দ দাশ
~~~~~~~~~~~~~~~

অনন্ত জীবন যদি পাই আমি - তাহ'লে অনন্তকাল একা
পৃথিবীর পথে আমি ফিরি যদি দেখিব সবুজ ঘাস
ফুটে উঠে - দেখিব হলুদ ঘাস ঝরে যায় - দেখিব আকাশ
শাদা হয়ে উঠে ভোরে - ছেঁড়া মুনিয়ার মত রাঙা রক্ত - রেখা
লেগে থাকে বুকে তার সন্ধ্যায় - বারবার নক্ষত্রের দেখা
পাব আমি; দেখিব অচেনা নারী আলগা খোঁপার ফাঁস
খুলে ফেলে চলে যায় - মুখে তার নাই আহা গোধূলির নরম আভাস।

অনন্ত জীবন যদি পাই আমি - তাহ'লে অসীমকাল একা
পৃথিবীর পথে যদি ফিরি আমি - ট্রাম বাস ধুলো
দেখিব অনেক আমি - দেখিব অনেকগুলো
বস্তি, হাট - এঁদো গলি, ভাঙ্গা কলকী হাড়ী
মারামারি, গালাগালি, ট্যারা চোখ, পচা চিংড়ি - কত কি দেখিব নাহি লেখা
তবুও তোমার সাথে অনন্তকালেও আর হবে নাকো' দেখা।

February 07, 2009

শুধুই কি কথোপকথন??:: ৬ (শেষ পর্ব)

পরদিন রুদ্রর সাথে আবার কথা হল অনুর। বরাবরের মত কুশল জিজ্ঞাসা করে কোনো রকম ভনিতা ছাড়াই কথা শুরু হল।
--গতকালের কথা শেষ করেন।
--হুম্ম, আমি একজনকে খুব ভালবাসি। আমার অফিস কলিগ অপর্না। আমরা একসাথেই পড়াশুনা করেছি। সে আমার সিনিয়র। অর একটা বোন তোমাদের ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, ডাক নাম জয়িতা।
--তিনি কি জানেন আপনার ভাল লাগার কথা?
--না বলা হয়নি। যদি আমাকে ছোটভাইয়ের মত দেখে সে ভয়ে।
--তাহলে এখন কি করবেন? বলবেন না? বলে ফেলেন। আমার মত দেরি করে ফেললে আর হয়ত কখন বলাই হবে না।
--না বলব না। তুমি কাকে বলতে পারনি?
ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল দু’জনেই। কথা এড়িয়ে অনু বলল-
--এটা কোন কথা হল? আপনি কাউকে ভালবাসবেন অথচ জানাবেন না। at least, জানালে পরে হ্যাঁ না কিছু একটা তো জানতে পারবেন। বলেই দেখেন।
--না বলব না। কোনদিন বলব না।
--আজব! কেন বলবেন না?
--জানি না।
--আচ্ছা আমি আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করি?(পরিবেশ হাল্কা করার চেষ্টা)
--কর।
-- কালো না সাদা?
--কালো।
--অপর্না নাকি অন্যকেউ?
--অন্যকেউ।
--কেন?
--অপর্নাকে আমি পাব না। ওর একটা সম্পর্ক আছে।
--ও। কিন্তু আমার মনে হয় এটা ঠিক হচ্ছে না। আপনার বলা উচিত ওনাকে।
--হবে না কিছুই হবে না।
--আমি আপনাকে গতকাল একটা কথা বলেছিলাম মনে আছে কিনা জানি না। আপনার সাথে আমি আর কথা বলব না। আমি আজ থেকে চলে যাচ্ছি।
--তুমি কি আমার জন্যেই চলে যাচ্ছ?
--না আপনার জন্যে আমি কেন যাব? আমার মনে হচ্চে চলে যাওয়া উচিত।
--যাবার আগে তোমায় একটা অনুরোধ করতে পারি? নেক্সট সপ্তাহে আমার-----------
--কি? আপনার বার্থডে?
--নাহ তবে প্রথম “B” এর সাথে মিল আছে।
--বিয়ে? (এবার অনুর আকাশ থেকে পড়ার মত অবস্থা, এতটা আসা করেনি সে)
--হুম্ম বিয়ে। যাকে বিয়ে করছি তার নাম অনিন্দিতা। তুমি আসলে ভীষন খুশি হব। আচ্ছা তোমার না গেলে হয় না?
--ইশ এত্ত বড় একটা ভাল খবর আগে দেবেন না? ভাল খবর কেউ কি শেষে দেয়? আমি চেষ্টা করব কিন্তু কথা দিচ্ছি না। আমাকে যেতেই হবে। অনেক হল আমি এবার যাই।
--ইয়ে মানে তোমার ফোন নাম্বারটা কি পেতে পারি?
--নিশ্চয়ই। ০১৭............। আপনারটা প্লিজ?
--০১৭........., ভাল থেকো। খুব মিস করব তোমার মত ভাল বন্ধুকে।বিদায়।
--আপনি ও ভাল থাকবেন। বিদায়।
এখানেই এখন পর্যন্ত কথোপকথনের শেষ। অনু আর রুদ্র এখন পর্যন্ত জানে না আর কি কখনো তাদের কথা হবে কিনা।

## দুঃখিত। পোষ্টটা আবারো বড় হয়ে গেল। হয়ত শেষ হল এই কথোপকথন। পরে যদি তাদের আবার কথা হয় আপনাদের আবার জানিয়ে দেব। আপাতত এখানেই শেষ।